বিরক্তিকর থেকে বিপজ্জনক, স্প্যামের ফাঁদ চিনবেন যেভাবে

প্রাপ্য লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অনুরোধ করে কিছুদিন পরপর ইমেইল আসছে? ডিমের ডজন কত, জানতে না চাইলেও মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে সে তথ্য জানাচ্ছে প্রতিদিন? কন্টাক্ট লিস্টে না থাকা নম্বর থেকে হাজার দশেক টাকা বোনাস পাওয়ার কথা বলে সেটি দ্রুত আদায় করে নিতে লিংক পাঠাচ্ছে ইনবক্সে?

 

আপনি একা নন। এমন অনেক বার্তা প্রতিদিন ইনবক্সে এসে আমাদের সময় নষ্ট করে। এসব বার্তার কিছু হয়তো নিরীহ, আবার কিছু বার্তা পাঠানোই হয় মানুষকে স্ক্যাম বা ফিশিংয়ের ফাঁদে ফেলতে। স্প্যাম ইমেইল ততক্ষণ পর্যন্তই নিরীহ, যতক্ষণ পর্যন্ত সেটি আপনার তথ্য পাচার বা আপনার আর্থিক ক্ষতি করছে না। অনলাইন স্পেসে নিরাপদ থাকতে আপনার উচিত স্প্যাম সেকশন পরিচ্ছন্ন রাখা।

 

স্প্যাম মেইল বলতে বোঝায়, এমন সব অপ্রয়োজনীয় তথ্য বা বার্তা যা না চাইতেই মানুষের ইনবক্সে চলে আসে। একে ডিজিটাল জাঙ্ক মেইলও বলা হয়। ইমেইল ছাড়াও টেক্সট, ফ্যাক্স বা ফোনকলের মাধ্যমেও স্প্যাম হতে পারে। স্প্যামের ফাঁদে ফেলে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ম্যালওয়্যার ডাউনলোড বা অর্থ প্রদানে বাধ্য করা হয়। আবার অযাচিত লিংক বা অ্যাটাচমেন্ট সংযুক্ত করে প্রতিনিয়ত আকর্ষণীয় অফার দেখিয়ে প্রতারণার চেষ্টা চালানো হয়।

 

সময়ের বিবর্তনে যোগাযোগের যত মাধ্যম তৈরি হয়েছে, সব ক্ষেত্রেই পৌঁছে গেছে স্প্যামাররা। অর্থাৎ স্প্যামিংয়ের কৌশলগত পরিবর্তন এসেছে। ইন্টারনেটের সাহায্যে যে কেউ যেকোনো জায়গা থেকে আপনাকে স্প্যামিংয়ের ফাঁদে ফেলতে পারে। এজন্য যেকোনো মাধ্যমে স্প্যাম বার্তা এলে কোনো লিংক বা অ্যাটাচমেন্টে ক্লিক করার ভুল করা যাবে না।

 

বিজ্ঞাপন হলো স্প্যামিংয়ের মূল চালিকাশক্তি। যেহেতু স্প্যাম সস্তা এবং পরিচয়ের তোয়াক্কা না করে সহজেই অসংখ্য মানুষের কাছে পাঠানো যায়, সেহেতু সকল ধরনের জাল ওষুধ, স্টক জালিয়াতি, বিপুল অর্থের আশা দেখিয়ে আগে টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং টাকা পাচারকারী নিয়োগের মতো নিষিদ্ধ কাজের জন্য এটি জনপ্রিয়। আবার কিছু অবাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনও স্প্যাম আকারে দেওয়া হয়। যদিও এসব স্প্যামের সঙ্গে বাণিজ্যিক স্প্যামের উদ্দেশ্য ভিন্ন, তবে দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা একই এবং সার্ভিস প্রোভাইডাররা সাধারণত সবগুলোকে একইভাবে বিচার করে।

 

ম্যালওয়্যার সংযুক্তি ও ফিশিংয়ের কাজেও স্প্যাম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে স্পিয়ার ফিশিংয়ের ক্ষেত্রে, টার্গেট করা ব্যক্তি বা কোম্পানিকে স্প্যামিংয়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা বা কোম্পানি সিস্টেম ক্ষতি করাই থাকে আক্রমণকারীদের মূল লক্ষ্য।

 

অনেকে মনে করেন স্প্যামিং আর ফিশিং একই জিনিস। কিন্তু এই দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সব ফিশিং স্প্যামিং হতে পারে, তবে সব স্প্যামিং ফিশিং নয়। স্প্যাম বলতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত গণ-বার্তা বোঝায়, যা বিরক্তিকর হলেও ক্ষতিকর নাও হতে পারে। অন্যদিকে, ফিশিং হলো এক ধরনের স্প্যাম যা আপনার সংবেদনশীল তথ্য চুরি করতে বা ক্ষতিকর কোনো কাজ করাতে চেষ্টা করে। যেমন- একটি ফিশিং ইমেইলে দাবি করা হতে পারে যে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে এবং ভুয়া একটি লগইন পেজের লিংকে ক্লিক করতে বলা হতে পারে।

 

মানুষ বিভিন্ন ভাবে স্প্যামিংয়ের শিকার হতে পারে, তবে সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে আপনি বুঝতে পারবেন এটা হয়তো স্প্যাম বার্তা। সেগুলো হলো-

  • অপরিচিত কারো থেকে আসা অপ্রত্যাশিত বার্তা
  • দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জরুরি অনুরোধ
  • পুরস্কার বা ফ্রি গিফটের লোভনীয় প্রতিশ্রুতি
  • পাসওয়ার্ড বা আর্থিক তথ্যের দাবি
  • বানানে ভুল বা অদ্ভুত ব্যাকরণ—যদিও আধুনিক এআইয়ের যুগে এটি এখন কম দেখা যায়
  • সন্দেহজনক লিংক বা অপ্রত্যাশিত ফাইল সংযুক্ত থাকা

 

এছাড়াও যদি কোনো বার্তা দেখে সন্দেহ হয়, তবে অপ্রত্যাশিত বার্তাটি আপনাকে তাড়াহুড়া করতে বলছে বা মানসিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। পারলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ফোন নম্বরের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করতে হবে।

 

অপরিচিত প্রেরক, দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা, লোভনীয় অফার বা সন্দেহজনক লিংকের মতো বিপদচিহ্নগুলো চিনে সতর্ক হওয়াই স্প্যাম থেকে বাঁচার প্রধান উপায়। যেহেতু স্প্যাম ইমেইল বা মেসেজের মূল উদ্দেশ্য থাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞাপন দেওয়া কিংবা ফিশিং ও ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও টাকা-পয়সা চুরি করা, সেহেতু সুরক্ষার জন্য-

  • স্প্যাম মেসেজের কখনোই উত্তর না দেওয়া,
  • বিল্ট-ইন ফিল্টার ও ‘Report Spam’ অপশনটি চালু রাখা,
  • ডিভাইসের সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করা
  • যেকোনো বার্তা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

 

স্প্যাম হয়তো পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না, তবে এটি কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে পারলেই প্রতারণার ফাঁদ থেকে নিজেকে খুব সহজেই বাঁচানো যায়। সতর্ক থাকার পাশাপাশি এটাও মনে রাখা দরকার যে ব্যাংক, অফিস, স্কুল বা হাসপাতালের মতো প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও তো সত্যিকারের দরকারি মেসেজ বা কল আসতে পারে। তাই কোনো বার্তা দেখে যদি সামান্যতম সন্দেহ জাগে, সেই ইমেইল বা মেসেজে থাকা ফোন নম্বর ও লিংকে একদম ভরসা না করে সোজা তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আসল নম্বর খুঁজে নিয়ে বিষয়টা সত্য কি না তা একটু যাচাই করে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

এ প্রতিবেদন তৈরিতে স্টেসেইফঅনলাইন-এর ‘স্প্যাম কী, কীভাবে পান এবং কীভাবে থামাবেন’ প্রবন্ধটি ব্যবহার করা হয়েছে।

May You Interested

ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ দেখলেন, কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তির ব্যক্তিগত ফোন নম্বর বা বাসার ঠিকানা একটি পেজ থেকে প্রকাশ করা

মোবাইল বা ল্যাপটপসহ যেকোনো ধরনের ডিভাইসে ওয়েব ব্রাউজিংয়ের ক্ষেত্রে পরিচিত এক নাম গুগল ক্রোম বা গুগল সার্চ ইঞ্জিন। গুগলের সঙ্গে

বর্তমান যুগের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (Artificial intelligence (AI)) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সংক্ষেপে আমরা একে ‘এআই’ বলি। পেশাদার