মোবাইল বা ল্যাপটপসহ যেকোনো ধরনের ডিভাইসে ওয়েব ব্রাউজিংয়ের ক্ষেত্রে পরিচিত এক নাম গুগল ক্রোম বা গুগল সার্চ ইঞ্জিন। গুগলের সঙ্গে আমরা জিমেইল, ফটোস, ড্রাইভ, ডক, স্প্রেডশিট, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার, ম্যাপ, ক্যালেন্ডারসহ আরও অনেক সুবিধা পেয়ে থাকি, অনেকক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যবহারও করি। কিন্তু আপনি কী ভেবে দেখেছেন গুগলের সঙ্গে শেয়ার করা আপনার যাবতীয় ডেটা বা তথ্য সুরক্ষিত কিনা? সম্প্রতি গুগলের পণ্য জিমেইল ও ক্রম ব্রাউজারে ডেটা ব্রিচ ও সাইবার হামলার ঘটনা সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন এসেছে। যেমন- ‘জিমেইল ডেটা ব্রিচের ঘটনায় ১৮ কোটি ৩০ লাখ পাসওয়ার্ড ফাঁস’ (দ্য ডেইলি স্টার), ‘৩৫০ কোটি ক্রোম ব্যবহারকারীর জন্য গুগলের ‘জিরো-ডে’ সতর্কতা—চলছে সাইবার হামলা’ (ফোর্বস)। বহুলব্যবহৃত এসব টুলসে যখন তথ্য চুরির মত ঘটনা ঘটে, তখন ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা চলেই আসে। ফলে গুগলের পরিবর্তে আপনার তথ্য সুরক্ষিত থাকবে এমন টুলস ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এই লেখায় আমরা ‘মেগা’ (MEGA) নামের একটি টুলস নিয়ে আলোচনা করবো যা আপনি ব্যবহার করতে পারেন “গুগল ড্রাইভ”-এর বিকল্প হিসেবে।
কী এই “মেগা”?
মেগা একটি নিরাপদ ও এনক্রিপটেড ক্লাউড স্টোরেজ যার মূল উদ্দেশ্য হলো ক্লাউড বা অনলাইনে নিরাপদে তথ্য সংরক্ষণ করা। এখানে আপনি সাইন-আপ করার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারের জন্য ২০ গিগাবাইট ক্লাউড স্টোরেজ ফ্রি পাবেন। পাশাপাশি এই প্লাটফর্মে আপনার ব্যক্তিগতভাবে ফোল্ডার শেয়ার, রিয়েল-টাইমে একসঙ্গে কাজ করা, নিরাপদে চ্যাট ও মিটিং, ভিপিএন (VPN)-এর মাধ্যমে ব্রাউজিং করা এবং পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের মতো সুবিধা পাবেন।
মেগা জিরো নলেজ এনক্রিপশন ব্যবহার করে তথ্য নিরাপদ রাখে। ফলে এই ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষিত তথ্য শুধু ব্যবহারকারী নিজে ছাড়া এবং যে ব্যক্তির সঙ্গে শেয়ার করা হবে সে ছাড়া আর কেউ দেখতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। যেহেতু তথ্যগুলো এনক্রিপটেড অবস্থায় থাকে, সেহেতু অন্য কারো পক্ষে তো দেখা সম্ভব নয়, এমনকি মেগা নিজেও ঐ তথ্যে প্রবেশ করতে পারে না।
ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি, মেগা ব্যবহারকারীকে রেজিস্ট্রেশনের পর ২০ জিবি ফ্রি দিয়ে থাকে। এছাড়াও এটির বেশ কিছু প্যাকেজ রয়েছে যা আপনি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে ২০ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে স্টোরেজ শেষ হওয়ার কোন ভয় নেই! আবার আপনি চাইলে আপনার ক্লাউডে সংরক্ষিত ফাইল বা তথ্য আপনার বন্ধু-বান্ধব বা সহকর্মীদের সাথে শেয়ার করতে পারবেন। এমনকি যাদের মেগা অ্যাকাউন্ট নেই তাদের সঙ্গে আপনি মেগায় সংরক্ষিত তথ্য শেয়ার করতে পারবেন! আপনি অন্যদের ফোল্ডার দেখার বা পূর্ণ অ্যাক্সেস দেওয়ার পাশাপাশি পাসওয়ার্ড সেট করা কিংবা নির্দিষ্ট সময় পর মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এমন লিঙ্ক তৈরি করার মতো সুবিধাও পাবেন।
মেগাতে ডেটা সিঙ্ক বা ব্যাক-আপ করা যায়। আপনি মেগা’র যে মাধ্যমই (ডেস্কটপ/ওয়েব/মোবাইল অ্যাপ) ব্যবহার করে তথ্য আপলোড বা ডাউনলোড করেন না কেন, সকল পরিবর্তন রিয়েল-টাইমে আপডেট হয়ে যায়। ফলে আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, সবসময়ই আপডেটেড ফাইলগুলো দেখতে পারবেন।
আপনি যদি বিনামূল্যে পাওয়া ২০ গিগাবাইটের অতিরিক্ত স্টোরেজ ব্যবহার করতে চান তবে জনপ্রিয় সকল ক্লাউড স্টোরেজ যেমন- গুগল, ড্রপবক্স এর মাসিক খরচের তুলনা করলে মেগার প্যাকেজ বেশি সুলভ। যার ফলে আপনি নির্দ্বিধায় অল্প খরচে বেশি স্টোরেজ ব্যবহার করতে পারবেন। আবার মেগা আপনার ডেটা এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন নিশ্চিত করে এবং পাসওয়ার্ড ম্যানেজার, ভিপিএন, এনক্রিপটেড চ্যাট ও মিটিং করার সুবিধাও দেয়। এজন্য এটা ব্যবহার করা সহজলভ্য।
মেগা ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনি নিচের ধাপ গুলো অনুসরণ করতে পারেন।
১। প্রথমে ওয়েব ব্রাউজার থেকে https://mega.io/ ওয়েব এড্রেসে যাবেন।

২। এরপর ‘সাইন আপ’ (Sign up) অপশনে ক্লিক করলে রেজিস্ট্রেশন পেইজে আপনাকে নিয়ে যাবে। এখানে আপনি আপনার তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করবেন।

৩। এরপর আপনার দেয়া ইমেইল এড্রেসে অ্যাকাউন্ট অ্যাকটিভ করার জন্য একটি ইমেইল যাবে।

৪। ইমেইলে অ্যাকাউন্ট অ্যাকটিভ অপশন ক্লিক করলে আপনার অ্যাকাউন্ট খুলে যাবে। অ্যাকাউন্ট তৈরির পর আপনি ফ্রি ২০ গিগাবাইট স্পেস পাবেন ব্যবহার করার জন্য।

আপনার তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপদ স্টোরেজ বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ফলে আপনার তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এমন টুলস ব্যবহার করা উচিত।