এআই ব্যবহারে সতর্কতা

বর্তমান যুগের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (Artificial intelligence (AI)) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সংক্ষেপে আমরা একে ‘এআই’ বলি। পেশাদার কাজকর্মের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও আমরা প্রতিনিয়ত এআই ব্যবহার করি। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ওয়েব ব্রাউজিং সকল ক্ষেত্রেই এখন এআই প্রযুক্তি সংযুক্ত রয়েছে। ফলে প্রতিদিন আমরা ইন্টারনেটে যা শেয়ার করছি, সেসব তথ্য ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা এসব তথ্য দ্বারা একক ব্যক্তি শনাক্ত করা সম্ভব। এসব তথ্য দিয়ে ডিপফেক ছবি বা ভিডিও বানানো সম্ভব যা কোনো ব্যক্তির জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

এআই প্রযুক্তির নিয়মিত উন্নত ভার্সন আসার ফলে যে কেউ যে কারো ছবি এআই ব্যবহার করে আরও মসৃণ করে তুলতে পারেন। এভাবে এটি আপনার ছবি নিজের ডেটাবেজে সংরক্ষণ করে। আবার এসব তথ্য থেকে ডিপফেক ভিডিও তৈরি করা সম্ভব যা খালি চোখে সহজে বুঝা মুশকিল। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই এআই ব্যবহার করে শিশু থেকে শুরু করে সেলিব্রেটি এমনকি অনেক সাধারণ নারীরও যৌনতাপূর্ণ ছবি তৈরি করে প্রকাশ করা হয়েছে এমন ঘটনাও রয়েছে। এসবক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ে নারীদের ভুক্তভুগী হিসেবে দেখা যায়!

 

ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, কারো সম্মানহানী করার চেষ্টা বা নিচু দেখানো, কারো প্রতি ক্ষোভ বা বুলিংয়ের উদ্দেশ্য থেকে নানা ধরনের ডিপফেক ছবি বা ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। এমনকি কারো ছবি বা তথ্য দিয়ে যেকোনো কাল্পনিক ঘটনা ও কাল্পনিক ব্যক্তি প্রোফাইলও তৈরি করা সম্ভব! যার ফলে সহজেই নির্ধারিত ব্যক্তির তথ্য যোগাড় করে, সে তথ্য থেকে অসম্মতিমূলক অন্তরঙ্গ ছবি, কণ্ঠ নকল করে ভয়েস কল, কিংবা ডক্সিং করে অবস্থান বা ব্যক্তিগত ঠিকানা প্রকাশ করে দেয়া সম্ভব।

 

কোন জনপ্রিয় উৎসব বা দেশিও কোন কর্মশালা বা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও মানুষ এআই ব্যবহারের মাধ্যমে নানা ধরনের ডিসইনফরমেশন, মিসইনফরমেশন ও ম্যালইনফরমেশন ছড়ায়। জনগণকে বিভ্রান্ত করা, আতঙ্ক ছড়ানো, জনজীবনে অশান্তি বা ঝামেলা তৈরি করতে রাজনৈতিক কারণেও বিভিন্ন দল থেকে এরূপ অপতথ্য ছড়ানোর ঘটনাও তৈরি করা হয় এআই ব্যবহারের মাধ্যমে। যেমন- ডিসমিসল্যাবের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দল নিয়ে মিসইনফরমেশন ছড়ানো হয়েছে। বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন ডিসমিসল্যাবের এই সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি

 

মানুষ এআই টুলস ব্যবহার করে বিভিন্ন সমস্যা যেমন- শারীরিক কোন দুর্বলতা, মানসিক সমস্যা, ডায়েট প্ল্যান,আইনি সমস্যা, আর্থিক সমস্যা বা একাডেমিক গবেষণা ইত্যাদি অনেক কিছুর ক্ষেত্রে সমাধান পাওয়ার চেষ্টা করে। এসব মারাত্মক ঝুঁকির আশংকা সৃষ্টি করতে পারে! এসকল এআই টুলসের একটি বড় দুর্বলতা হচ্ছে এটি তার সর্বশেষ ট্রেনিং করা তথ্য অনুযায়ী সমাধান দেয়ার চেষ্টা করে যা বাস্তব জীবনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। আবার অনেক সময় ভুল তথ্যও দিয়ে থাকে যা ব্যক্তিকে নানাভাবে বিপদ ফেলতে পারে।

 

এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রধান চিন্তাগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল, মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানো (যেমন ভুল তথ্য ছড়াতে কিংবা সাইবার আক্রমণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করতে এআইকে কাজে লাগানো), এবং এর অপব্যবহারের সম্ভাবনার বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়। তবে এটি মোটেও সহজ নয়। এটি একটি পরিবর্তনশীল বিষয়, যা নতুন নতুন আবিষ্কার এবং জনমতের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে আমাদেরও এসব সম্পর্কে অবহিত থেকে তথ্য শেয়ারে সতর্ক হতে হবে।

 

নিয়মিত এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনি কিছু কিছু জিনিস মাথায়ে রাখতে পারেন। যেমন-

  • যেকোনো এআই টুলস ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাথায়ে রাখবেন এটি ভুল করতে পারে অর্থাৎ এটির দেওয়া সকল তথ্য বা রিসোর্স যথাযথ বা ন্যায়সঙ্গত নাও হতে পারে। সুতরাং, প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রথমেই যাচাই করে নেওয়া। বিশেষ করে মেডিক্যাল বিষয়ক মন্তব্যে ডাক্তারি পরামর্শ নেয়া।
  • এআইয়ের সীমাবদ্ধতা গুলো জেনে ব্যবহার করা। যেহেতু রিয়েল টাইম বা তাৎক্ষণিক তথ্য অনুযায়ী এটি কাজ করতে পারেনা, সেহেতু অনেক সময় কাল্পনিক প্যাটার্নে তথ্য দিয় যার বাস্তবিক মনে হলেও সত্য নয়।
  • এআই সিস্টেম আপনার দেয়া তথ্য নির্বিঘ্নে ব্যবহার করে ও জমা রাখে। ফলে আপনি আপনার কোন ধরনের তথ্য এআই কে দিচ্ছেন সে সম্পর্কে সবসময় সতর্ক থাকা। যেমন – আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য, পাসওয়ার্ড, ফিন্যাসিইয়াল তথ্য ইত্যাদি শেয়ার থেকে বিরত থাকা।
  • অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সোশ্যাল মিডিয়াতে এআই কনটেন্ট শনাক্ত করতে জানা। কোন তথ্য বা ছবি বা ভিডিও বা অডিও কি আসল নাকি এআই তা যাচাই করার পর বিশ্বাস করা বা অন্যদের শেয়ার করা। যেমন – রিভার্স ইমেজ সার্চ, ইন-ভিড বা এআই ভেরিফিকেশন টুলস (হাইভ মডারেশন, ভেরিফাই ওপেনএআই) ব্যবহার করে তথ্য যাচাই করা।
  • অন্যদের শিখানো কোনটি এআই কনটেন্ট আর কোনটি না। বিশেষ করে বাচ্চাদের ও প্রযুক্তি সম্পর্কে কম অবহিত মানুষদের এ সম্পর্কে সচেতন করা উচিত। পিয়ার প্রেশারে এসে ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার বা তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে নিজেকে কোন বিপদে না ফেলে এজন্য এটি নিয়ে বুঝানো।
  • যখনই বৈষম্যমূলক তথ্য, গোপনীয়তা লঙ্ঘন (মডেল কর্তৃক ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ), বিপজ্জনক সুপারিশ (ক্ষতিকর চিকিৎসা বা আইনি পরামর্শ), নিরাপত্তা সংক্রান্ত দুর্বলতা (জেলব্রেক বা এক্সপ্লয়েট) অথবা এআই (AI) ব্যবহার করে প্রতারণা বা জালিয়াতি করে হয়রানির উদ্দেশ্যে ডিপফেকের ব্যবহার লক্ষ্য করলে সাথে সাথে প্রমাণ (স্ক্রিনশট ও আর্কাইভ) সংগ্রহ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করা।

 

এআই নিয়ে সুরক্ষা পেতে হলে আপনাকে প্রথমেই এ বিষয়ে জানতে হবে ও এটির কাজের প্যাটার্ন বুঝতে হবে। যে এআই টুলসটি ব্যবহার করছেন সে সম্পর্কে খুঁটিনাটি জেনে এরপর ব্যবহার করলে আপনার অনলাইনে নিরাপদ থাকা সহজ হবে।

 

 

May You Interested

মোবাইল বা ল্যাপটপসহ যেকোনো ধরনের ডিভাইসে ওয়েব ব্রাউজিংয়ের ক্ষেত্রে পরিচিত এক নাম গুগল ক্রোম বা গুগল সার্চ ইঞ্জিন। গুগলের সঙ্গে

বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রায়শই চরমে পৌঁছায়, যার ফলস্বরূপ সাংবাদিকেরা সরাসরি সংঘাত বা চাপের সম্মুখীন হতে পারেন। সহিংসতা, হুমকি,

বাসায় থাকা বিভিন্ন জিনিসের সুরক্ষার জন্য একাধিক লকার ব্যবহার করি আমরা। টাকাকড়ি, গোপনীয় কোনো নথি রাখতে আলমারি বা ড্রয়ারে কিংবা