করোনা (কোভিড-১৯) মহামারি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নতুন নতুন প্রযুক্তির অভূতপূর্ব  গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এসেছে, যা আমাদের কাজ, ভ্রমণ, পড়াশোনা এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের ধরনে অনেক পরিবর্তন এনেছে। যেহেতু আমাদের জীবনের বড় একটি অংশ এখন অনলাইনে কেটে যায়, আমাদের ডিজিটাল সুরক্ষার জন্য আমাদের বিভিন্ন সচেতনতা এবং সাবধানতামূলক অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। একইসঙ্গে আমাদের ডিভাইস এবং সফটওয়্যার কতটুকু নিরাপদ বা “পরিষ্কার” তার দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

ডিজিটাল স্বাস্থ্যবিধি হলো আমাদেরকে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা ডিজিটাল হুমকি যেমন, ক্ষতিকারক ইমেল, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিশিং, সাইবার হয়রানি, হ্যাকিং, তথ্য চুরি ইত্যাদির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অধিকাংশ তথ্য ফাঁস এবং হ্যাকিং মানুষের নিজস্ব ভুলের কারণে ঘটে, তাই কীভাবে আমরা আরো নিরাপদ থাকতে পারি তা জানা জরুরি। এই আর্টিকেলে আপনি ডিজিটাল ভাইরাস থেকে কীভাবে নিরাপদ থাকা যায় সেই বিষয়ে কিছু পরামর্শের পাশাপাশি ডিজিটাল জগতে আমরা যেসব টুল/অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করি সেগুলোর কিছু নিরাপদ বিকল্পের ব্যাপারে জানতে পারবেন।

অনলাইন ওয়ার্কস্পেসে ভালো ডিজিটাল স্বাস্থ্যবিধি:

বাড়ি কিংবা অফিস যেখান থেকেই কাজ করেন না কেন, আপনার অনলাইন ওয়ার্কস্পেস নিরাপদ কি না এবং আপনার ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও ফাইল সুরক্ষিত কি না তা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল স্বাস্থ্যবিধির প্রতি মনোযোগ দেওয়া জরুরি। প্রতিদিন কাজ শুরুর আগে ভালো কিছু অভ্যাসের একটি চেকলিস্ট এখানে দেয়া হলো:

১. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এখনো গুরুত্বপূর্ণ: অনেক প্রযুক্তি কোম্পানি পাসওয়ার্ড-হীন ভবিষ্যতের জন্য চেষ্টা করছে, তবে পাসওয়ার্ডের ব্যবহার শীঘ্রই শেষ হচ্ছে না। পাসওয়ার্ড আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশের প্রথম ধাপ, তাই শক্তিশালী এবং নিরাপদ পাসওয়ার্ড তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • আরো বেশি নিরাপদ থাকতে চাইলে, সব অ্যাকাউন্টের জন্য, বিশেষ করে ইমেল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন।
  • ব্যক্তিগত ওয়াইফাই এর নাম দেওয়ার সময় সহজে শনাক্ত করা যায় না এমন কোন নাম ব্যবহার করুন।
  • বিশেষ অক্ষর এবং সংখ্যা যোগ করে এমন কোন পাসওয়ার্ড ওয়াইফাই রাউটারে ব্যবহার করুন যা সহজে ক্র্যাক করা যাবে না। 
  • আপনার বাড়ির ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত স্মার্ট ডিভাইসগুলোতে যেই ডিফল্ট পাসওয়ার্ড দেয়া আছে সেই পাসওয়ার্ডগুলো পরিবর্তন করে আপনার নিজের বাছাই করা কোন পাসওয়ার্ড দিন। 
  • আপনার পাসওয়ার্ডগুলো সুরক্ষিত রাখার জন্য KeePassXC বা BitWarden-এর মতো কোন নির্ভরযোগ্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন।

২. আপনার সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলো আপডেটড রাখুন: যখনই কোন নতুন সিকিউরিটি আপডেট বা প্যাচ আসে তখনই সেইগুলো ইন্সটল করুন যতদ্রুত সম্ভব।

  • অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার এবং ফায়ারওয়াল আপডেট আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
  • যেই সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলো আপনি ব্যবহার করেন না সেগুলো প্রয়োজনয়ীয় না হলে আপনার ডিভাইস থেকে রিমুভ করে ফেলুন। 
  • যেকোনো  অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করার আগে কোন ওয়েবসাইট/স্টোর থেকে ডাউনলোড করছেন এবং তা আসল ওয়েবসাইট কিনা তা যাচাই করুন।

৩. আপনার ফাইলগুলোর ব্যাকআপ রাখুন এবং নিয়মিত ব্যাকআপ করুন: কোন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল চিরতরে হারিয়ে ফেলা আপনার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে, তাই ডেটা হারানো এবং র‌্যানসমওয়্যারের ঝুঁকি এড়াতে, নিরাপদ টুল ও প্রসেস ব্যবহার করে সব গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ব্যাকআপ করার অভ্যাস তৈরী করুন।

  • এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভ এবং ক্লাউড সার্ভিসে যেই ফাইলগুলো ব্যাকাপ করবেন তা এনক্রিপ্ট করুন নিরাপত্তার জন্য।  
  • ক্লাউডে ব্যাকাপের আগে Cryptomator-এর মতো সফটওয়্যার করতে পারেন আপনার ফাইলগুলো এনক্রিট করার জন্য। 
  • আপনি VeraCrypt ব্যবহার করে নিজের কম্পিউটারেই এনক্রিপ্টেড স্টোরেজ তৈরি করতে পারেন।

৪. নিরাপদ ব্রাউজার এবং ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (VPN) : আপনার ইন্টারনেট সংযোগ সুরক্ষিত রাখতে নিরাপদ ব্রাউজার ও ভিপিএন ব্যবহার করুন

  • আপনি যদি নির্ভরযোগ্য কোন ব্রাউজার চান আপনি Brave, Firefox, এবং Chromium ব্যবহার করতে পারেন। ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন পরিবর্তন করে প্রাইভেসিকে প্রাধান্য দেয় এমন কোন সার্চ ইঞ্জিং ব্যবহার করতে পারেন, যেমন: DuckDuckGo। নিয়মিত আপনার ক্যাশ এবং ওয়েব হিস্টোরি পরিষ্কার করুন।
  • ইন্টারনেট ব্রাউজিংকে নিরাপদ করতে Privacy Badger, NoScript এবং uBlock Origin-এর মতো সিকিউরিটি ব্রাউজার এক্সটেনশন ইনস্টল করুন।
  • কিছু এক্সটেনশন আপনার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করে যেই এক্সটেনশনগুলো নিয়মিত ব্যবহার করেন না সেই এক্সটেনশনগুলো রিমুভ করে ফেলুন।
  • VPN ব্যবহার করে আপনার ইন্টারনেট সংযোগ সুরক্ষিত করুন। VPN-কে একটি “ব্যক্তিগত টানেল বা গোপন সুড়ঙ্গ” হিসাবে ভাবুন যা শুধুমাত্র আপনাকে একটি নিরাপদ VPN সার্ভারের সাথে সংযুক্ত করে।
  • নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক এবং নির্ভরযোগ্য কোন VPN ব্যবহার করুন। যদি ফ্রি কোন VPN ব্যবহার করতে চান, আপনি RiseUp VPN, Proton VPN, Psiphon, বা TunnelBear (৫০০ এমবি পর্যন্ত ফ্রি) ব্যবহার করতে পারেন।

Illustration by Rebecca Wang for the OpenIDEO Cybersecurity Visuals Challenge. Image licensed under the Creative Commons Attribution 4.0 International license.

৫. ফিশিং আক্রমণের ব্যাপারে সচেতন থাকুনঃ ভুয়া লিঙ্ক বা ঝুঁকিপূর্ণ ইমেইল/মেসেজে ভুলে ক্লিক করলে আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হতে পারে, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হতে পারে এবং কম্পিউটার সিস্টেম ইনফেক্টেড হতে পারে। তাই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন!

  • অজানা সোর্স থেকে আসা কোন সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। যদি আপনি কোন লিংকের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে না পারেন, তাহলে VirusTotal ব্যবহার করে প্রথমে লিঙ্কটি চেক করুন।
  • কমন কিছু ফিশিংঅ্যাটাক চিনতে এবং কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন তা শিখতে Surveillance Self-Defence গাইড এবং এই EngageMedia আর্টিকেলটি পড়ুন।

৬. আপনার অনলাইন যোগাযোগের জন্য আরও একটি সুরক্ষা স্তর যোগ করতে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সম্পর্কে জানুনঃ আপনি আপনার ইন্টারনেট অ্যাক্টিভিটি এনক্রিপ্ট না করলে কিছু টুল বা প্রসেস ব্যবহার করে যে কেউ আপনার ইন্টারনেট অ্যাক্টিভিটি সম্পর্কে জেনে যেতে পারে। ধরে নিন আপনি কারও কাছে একটি পোস্টকার্ডে চিঠি পাঠাচ্ছেন। পোস্টকার্ডটি যিনি পাঠাচ্ছেন বা গ্রহণ করছেন, তারা কিন্তু আপনার চিঠিটি পড়তে পারবেন। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন হলো খামের ভিতরে চিঠি পাঠানোর মতো: অন্যরা দেখতে পাবে আপনি চিঠি পাঠাচ্ছেন, কিন্তু খামের ভিতরে কী রয়েছে তা তারা দেখতে পারবেন না।

  • OpenPGP ব্যবহার করে আপনার ইমেইল এনক্রিপ্ট করুন। সহজে PGP ইমেইল এনক্রিপশন ব্যবহার করতে চাইলে Mailvelope-এর মতো ব্রাউজার এক্সটেনশন এবং Proton Mail, Tutanota, Mailbox.org এবং RiseUp-এর মতো ইমেইল সার্ভিসগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
  • Signal, Wire এবং Session-এর মতো বিল্ট-ইন এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনযুক্ত ওপেন-সোর্স মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করুন।

আপনার ওয়েব ব্রাউজার যাতে সবসময় নিরাপদ কানেকশন ব্যবহার করে ইন্টারনেটে যুক্ত হয় তা নিশ্চিত করতে HTTPS-অনলি মোড চালু করুন। বেশিরভাগ নতুন ব্রাউজার আপনাকে সম্পূর্ণ HTTPS ছাড়া কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশের সময় সতর্কবার্তা দেবে।

৭. অনলাইনে গোপনীয়তা সুরক্ষিত করতে এই টিপসগুলো অনুসরণ করুন:

  • সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে আপনার শেয়ার করা তথ্য লিমিট করে দিয়ে আপনার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট কমিয়ে দিন। ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করা, আপনার অবস্থান ট্যাগ করা, এবং আপনার মোবাইল নম্বর অনলাইন অ্যাকাউন্টের সাথে সংযুক্ত করা থেকে বিরত থাকুন।
  • গুগল, ফেসবুক, টুইটার এবং লিংকডইনের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাইটগুলোর প্রাইভেসি সেটিংস রিভিউ করুন। আপনার প্রোফাইল পেজগুলো ব্যক্তিগত করুন এবং আপনার পোস্টের ভিজিবিলিটি ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সীমিত করুন।
  • এড ট্র্যাকিং ডিসএবল করুন যাতে বিজ্ঞাপনদাতা এবং ডেটা ব্রোকাররা আপনাকে অনলাইনে অনুসরণ করতে এবং আপনার প্রোফাইল তৈরি করতে না পারে। একইসাথে অফ-ফেসবুক ট্র্যাকিংও বন্ধ করুন।
  • নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করার সময় বা মেইলিং লিস্টে সাবস্ক্রাইব করার সময় ডিসপোজেবল ইমেইল এড্রেস ব্যবহার করুন। Firefox Relay (Mozilla) এবং SimpleLogin (Proton) ফ্রি ইমেইল রিডাইরেক্ট সিস্টেম অফার করে, যা ব্যবহার করে আপনি ব্যক্তিগত ইমেইল এড্রেসকে আড়াল করতে পারবেন।
  • আপনি বিজ্ঞাপন কম দেখতে চাইলে Adblock Plus এবং Disconnect-এর মতো অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করুন, যা একইসাথে অনলাইনে আপনাকে ট্র্যাক করা কঠিন করে তোলে।

৮. ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার কমিয়ে আনাও ডিজিটাল স্বাস্থ্যবিধির অন্তর্ভুক্তঃ সর্বশেষ কবে আপনি সব ধরনের ডিভাইস থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন? আপনার স্ক্রিনের সময় সীমিত করতে এবং আপনার ডিজিটাল সুস্থতা বাড়াতে “ডিজিটাল ডিটক্স” করতে পারেন। সব ধরনের ডিভাইস থেকে আপনার কেন ব্রেক নেয়া উচিত এবং আপনার কমপ্লিট “ডাটা ডিটক্স” করা প্রয়োজন কি না তা চিন্তা করে দেখতে পারেন।

Digital Safety

Illustration by Abraham Pena for the OpenIDEO Cybersecurity Visuals Challenge. Image licensed under the Creative Commons Attribution 4.0 International license.

অনলাইনে অন্যদের সাথে নিরাপদে কাজ করা:

আমরা এতক্ষণ পর্যন্ত নিজেরাই অনুসরণ করতে পারি এমন কিছু ডিজিটাল স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে আলোচনা করলাম। কিন্তু ঘরে বসে রিমোট ওয়ার্ক করতে গেলে এমন কারো সাথে কাজ করতে হতে পারে যিনি হয়তো তার নিজের ডিজিটাল সুরক্ষার ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন নন। একসাথে রিমোটলি কাজ করার জন্য নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য কী কী টুল আছে? এই প্রশ্নের কোন এক্সাক্ট উত্তর না থাকলেও আমরা এই EngageMedia আর্টিকেলে নিজেদের সুপারিশ দিয়েছি। Tactical Tech-এর “Technology is Stupid” নিবন্ধে বলা হয়েছে: “এমন কোন টুল এখনো বাস্তবে তৈরী হয়নি যা সবার জন্য, সর্বত্র কাজ করবে, ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত থাকবে, ব্যবহারকারীদেরকে সবসময় সুরক্ষিত রাখবে এবং এটি ব্যবহার করতে কোন অতিরিক্ত জ্ঞান বা অবকাঠামোর প্রয়োজন হবে না।”

তবে পারফেক্ট কোন সমাধান না থাকলেও আমরা আমাদের তালিকায় নিরাপদ এবং সহজে ব্যবহার করা যায় এমন কিছু টুল এবং প্রচলিত কিছু টুলের নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য বিকল্প টুল যুক্ত করেছি। অনলাইন টুলগুলো কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে সচেতনতা ওবলম্ভন করা উচিত তা সম্পর্কে জানতে হলে এই আর্টিকেলটি পড়ে দেখুন।

১. অন্যদের সাথে একই ডকুমেন্টে কাজ করার জন্য Google Docs-এর বিকল্প:

  • CryptPad একটি ওপেন-সোর্স বিকল্প টুল, যা ডকুমেন্টে কলাবোরেশনের সুযোগ দেয়। রেজিস্ট্রেশন করার পরে ইউজাররা ১ জিবি স্টোরেজ ব্যবহার করতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ ফ্রি এবং কোনো ব্যক্তিগত ডেটার প্রয়োজন হয় না। ক্রিপ্টপ্যাডে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া তৈরী করা কোন প্যাড তিন মাসের নিষ্ক্রিয় থাকলে ডিলিট করে দেয়া হয়।
  • Riseup Pad Etherpad ব্যবহার করে কোলাবরেটিভ এডিটিং এর সুযোগ দেয়। Riseup আইপি এড্রেস সংরক্ষণ করে না এবং প্যাডগুলো টানা ৬০ দিন ইনএক্টিভ থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলা হয়।

২. মেসেজিং অ্যাপ WhatsApp, Line, এবং Viber-এর বিকল্প:

  • Signal একটি ফ্রি চ্যাট অ্যাপ, যা এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবহার করে। এর ওপেন-সোর্স Signal প্রোটোকল আপনার চ্যাটকে সুরক্ষিত রাখে। সিগনালে গোপনীয় কনভারসেশনের জন্য মেসেজ পড়ার পরে বা কিছু সময় পরেই হারিয়ে যাবে এমন ফিচারও আছে।
  • Wire ওয়ান টু ওয়ান বা গ্রুপ চ্যাট, ভয়েস যোগাযোগ, এবং ফাইল-শেয়ারিংয়ের সুবিধা দেয় এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সহ। আপনি আপনার ইমেল বা ফোন নম্বর ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।
  • Rocket.Chat-ও একটি ওপেন-সোর্স চ্যাট অ্যাপ, যা এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সহ আসে।

এই অ্যাপগুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে নিরাপদ মেসেজিং অ্যাপের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেখুন।

৩. Zoom এবং Skype-এর বিকল্প ভিডিও কনফারেন্সিং টুল:

  • Jitsi Meet একটি সহজে ব্যবহারযোগ্য ওপেন-সোর্স টুল, যা ব্যবহার করার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হয় না। আপনি meet.jit.si ব্যবহার করে বিনামূল্যে আপনার অনলাইন মিটিং হোস্ট করতে পারেন অথবা Jitsi Meet নিজের সার্ভারে স্থাপন করতে পারেন। অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বিনামূল্যের Jitsi Meet ডিপ্লয়মেন্টগুলো হচ্ছে Greenhost, Framatalk, এবং Disroot
  • BigBlueButton একটি ওপেন-সোর্স ভিডিও যোগাযোগের টুল, যাতে Google Meet, Microsoft Teams এবং অন্যান্য টুলের মত সব ফিচার আছে। এই টুল দিয়ে আপনি ব্রেকআউট রুম তৈরি করতে পারেন, হোয়াইটবোর্ড ব্যবহার করতে পারেন, ক্লোজড ক্যাপশনিং চালু করতে পারেন, পোল চালাতে পারেন, নোট শেয়ার করতে পারেন এবং অনলাইন প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার জন্য উপযুক্ত অন্যান্য ফিচার ব্যবহার করতে পারেন। আপনি নিজস্ব সার্ভার চালাতে পারেন বা NoLog.cz, CommunityBridge, meet.coop এবং অন্যান্য প্রদানকারী দ্বারা পরিচালিত BigBlueButton-এ সাইন আপ করতে পারেন।
  • Talky বিনামূল্যে এনক্রিপশনের সুযোগ দেয়। এই অ্যাপটি ৬ জন পর্যন্ত গ্রুপের জন্য ভিডিও চ্যাট এবং স্ক্রিন শেয়ার করার সুযোগ দেয়। 
  • Wire পেইড ভার্শনে নিরাপদ ভিডিও কনফারেন্সিং করার সুযোগ দেয়। আপনি Wire ব্যবহার করে দেখতে চাইলে আপনি তাদের ৩০ দিনের ফ্রি ট্রায়ালের অপশন নিতে পারেন। 
  • Mumble ভালো একটি বিকল্প যদি আপনার অনলাইন কনফারেন্সের জন্য শুধুমাত্র অডিও ব্যবহার করতে হয়। এটি ফ্রি, ওপেন-সোর্স এবং এর ল্যাটেন্সি তুলনামূলকভাবে কম অন্য সার্ভিসগুলোর তুলনায়।
  • আপনি যেই ভিডিও কনফারেন্সিং টুলই ব্যবহার করুন না কেন, সবসময় আপনার কাজের পরিবেশ এবং ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে সচেতন থাকুন। আপনার ব্যক্তিগত কোন জিনিস যাতে দেখা না যায় সেজন্য একটি প্লেইন ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। যখন ক্যামেরা ব্যবহার করছেন না, তখন ক্যামেরা ঢেকে রাখতে পারেন নিরাপদে থাকার জন্য।

৪. বাণিজ্যিক ফাইল-শেয়ারিং পরিষেবার বিকল্প:

  • Share.riseup.net একটি ফাইল-শেয়ারিং সার্ভিস। Riseup এই সার্ভিস হোস্ট করে এবং যেকোন আপলোডেড ফাইল এক সপ্তাহ অনলাইনে রাখার পরে রিমুভ করে দেয়। 
  • OnionShare.org টর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নিরাপদভাবে এবং গোপনীয়ভাবে যেকোনো আকারের ফাইল শেয়ার করার সুযোগ দেয়।
  • Disroot-এর Lufi আপনার ফাইল এনক্রিপ্ট করে এবং অনলাইন শেয়ারিংয়ের জন্য সর্বাধিক ৩০ দিন পর্যন্ত হোস্ট করে।
Digital Hygiene

Image from 200degrees, licensed under the Pixabay License.

আপনার টুল, আপনার পছন্দ

ইন্টারনেটে সংযুক্ত হওয়া সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। অনলাইনে আপনাকে ট্র্যাক করা হয় এবং আপনার ডাটা কখনোই সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ না। অনলাইনে নিরাপদে থাকার কোন ফুলপ্রুফ সমাধান না থাকলেও ডিজিটাল নিরাপত্তাকে হালকাভাবে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। 

যে টুলগুলো আপনি আপনার অনলাইন ওয়ার্কস্পেসে ব্যবহার করবেন, সেগুলো বেছে নেওয়ার সময় একটি ভালো নিয়ম হলো তাদের প্রাইভেসি পলিসি পর্যালোচনা করা এবং তাদের এনক্রিপশনের ধরনটি ভালোভাবে যাচাই করা। অনেক টেক কোম্পানি এবং ডেভেলপাররা তাদের টুলগুলোর এনক্রিপশন কত শক্তিশালী তা প্রদর্শন করতে আগ্রহী, তবে সব ধরনের এনক্রিপশন সমানভাবে কার্যকর নয়, এবং আমরা যে সফটওয়্যারগুলো ব্যবহারে অভ্যস্ত, তার অনেকগুলিই এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড নয়। উদাহরণস্বরূপ, জনপ্রিয় ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ Zoom আসলে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড নয়, যার মানে সঠিক টুল এবং দক্ষতা থাকলে যে কেউ আপনার মিটিংগুলিতে গুপ্তচরবৃত্তি করতে পারে।

দিনের শেষে, ডিজিটাল নিরাপত্তা একটি আপেক্ষিক ধারণা। আপনি শেষ পর্যন্ত কী কী টুল ব্যবহার করবেন তা আপনার প্রয়োজন এবং জীবনধারার উপর নির্ভর করে। আপনার বাউন্ডারি আপনিই নির্ধারণ করবেন এবং কোন টুলগুলো আপনি ব্যবহার করতে চান তা আপনিই বেছে নেবেন।

যদি আপনি আরও টুল খুঁজে পান যা আপনার জন্য কার্যকর, তাহলে আপনারা আমাদেরকে জানাতে পারেন! আমরা এই পোস্টটি নতুন সুপারিশ এবং সুরক্ষা আপডেটগুলির সাথে সাথে হালনাগাদ করব। আমরা সবাই মিলে যত ভালোভাবে ডিজিটাল স্বাস্থ্যবিধি চর্চা করব, আমরা সবাই ঠিক ততটাই নিরাপদ থাকব।

সূত্র: এঙ্গেজ মিডিয়া

A free in-person training is happening every month!